সাবিরা আত্মহত্যা নিয়ে দৈনিক পত্রিকা গুলো বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। একটি দৈনিক এ লিখা হয়েছে এখনো নির্ঝর এর ভাই প্রত্যয় কে পুলিশ খুঁজছে আরেকটি বলছে দুজনকেই হাজতে দেয়া হয়েছে। একজন বলছে নির্ঝর দায় স্বীকার করেছে, আরেকজন বলছে করে নি।
একটি দৈনিক এর ভাষ্যমতে, সাবিরা ও নির্ঝরের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্রে জানা গেছে ভয়াবহ তথ্য। বয়ফ্রেন্ড নির্ঝর ও তার কিছু বন্ধুর মাধ্যমে বিকৃত যৌনাচারের শিকার হতেন সাবিরা। একসঙ্গে একাধিক যুবকের সঙ্গে মিলিত হওয়া, কালো বিদেশীদের সঙ্গে মিলিত হতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিকৃত যৌনাচার করা হয় সাবিরার সঙ্গে। এসবে সাবিরার কতটা সম্মতি ছিল সেটা জানা যায়নি। বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও চিত্র ধারণ করে সেগুলো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো বলে তাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।
আর সাবিরা এর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এর কাছ থেকে জানা গেলো, ছোটো কাল থেকেই সাবিরা ছিলো অবহেলিত। খুব ছোটো থাকতে ডিভোর্স হয় বাবা-মা এর। বাবা বিদেশ চলে যায় মা দেশে থাকে। তাদের সাথে সাবিরা এর কোনো স্মৃতি মনে নেই। তারা কেউ খবর নিতো না সাবিরার। পরে সাবিরা তার এক ফুফু এর বাসায় গিয়ে ওঠে। সেখানে ও তার এক আংকেল দ্বারা সে মলেস্টেড হয়। ফুফু কে বিচার দেয়ার পর ও সমাধা হয় নি। বরং তাকে বলা হয় ঘর ছেড়ে বের হয়ে যেতে। এমতাবস্থায় দাদী হয়ে ওঠে তার শেষ আশ্রয়। এভাবেই দাদীর কাছে বেড়ে ওঠে।
একা একা থাকতে থাকতে বাজে বন্ধু দের পাল্লায় পড়ে বিপথে চলে যায় সাবিরা। আর এই সময়েই পরিচয় হয় নির্ঝরের সাথে। নির্ঝরকে সে অনেক বেশি ভালোবাসতো। এতোটা কাল আদর-স্নেহ-মায়া-মমতা না পাওয়া মেয়েটা নির্ঝর কে ভালোবাসার মানুষ হিসেবে পেয়ে অনেক সুখি হিসেবে বাচতে চায়। পরিবার কি তা না বোঝা একটা মেয়ে গাট বাঁধতে চায় এই ছেলেটার সাথে। অনেক স্বপ্ন তার চোখে। নিজের ঘর হবে, সংসার হবে, পরিবার হবে। বিপথের জীবন যাপন কারী হলেও বাঙ্গালী মেয়ে তো তাই স্বপ্ন টা আমাদের আর সব বাঙ্গালী নারীদের মতনি ছিলো। নির্ঝর কে পরিপূর্ণ রূপে পেতে সে তার সর্বস্ব তাকে বিলিয়ে দেয়।
কিন্তু নির্ঝর সেই বিশ্বাস এর মান রাখতে পারে নি। সাবিরা কে তার কাজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত। ভিডিওতে আর ভিডিও এর পোস্ট এ সাবিরা উল্লেখ করে যে নির্ঝর তাকে "সেক্স স্লেভ" হিসেবে ইউজ করতো। এর মানে কিন্তু কারোরি বোঝার বাকি নেই। উপরেই এক দৈনিক পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম যে, নির্ঝর ও তার কিছু বন্ধুর মাধ্যমে বিকৃত যৌনাচারের শিকার হতেন সাবিরা। এবং তাকে বিয়ের প্রলোভন এ একাধিক ব্যাক্তি এর সাথে বিকৃত যৌনাচার এ লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয় এবং সেই সঙ্গে সেই বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও চিত্র ধারণ করে তা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো।
যেখানে একটা মেয়ে তার সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছে শুধু একটা ছেলে কে পাবার আশায় সেখানে সেই ছেলেই কিনা তাকে ব্যবহার করেছে পদে পদে। তার পরিবারের লোকজন নির্ঝরের সামনেই সাবিরা কে বলেছে প্রস্টিটিউট! কতোটা কষ্ট পেলে একটা মানুষ ফাসিতে ঝুলে। ভাবতেই শরীর শিউরে উঠে।
সাবিরা কে সবাই আঙ্গুল তুলতেসে সে ড্রাগস নিতো বলে আর এডিক্টেড ছিলো বলে। ২১ বছর বয়সি একটি মেয়ে যে কিনা ছোটো থাকতে মা-বাবার আদর-স্নেহ-মায়া-মমতা কাকে বলে বুঝে নি? বড় হবার পর এক সাথে বাবা মা কে দেখে নি। বাবা-মা এর সাথে যার কোনো স্মৃতি নেই। ছোট কালে সেক্সুয়ালী মলেস্টেড হয়েছে আংকেল এর কাছে। বয়ফ্রেন্ড ও তাকে ব্ল্যাকমেইল করতো। এখন আমাকে বোঝান এই মেয়ে বিপথে যাবে না তো কে যাবে? সে জীবনে যা যা চোখে দেখেছে তার হয়তো কানা-কড়ি ও আমাদের আশেপাশের মা-বোনেরা দেখে নি। স্বপ্নে ও হয়তো ভাবেন নি। বাস্তবে ও দেখেন নি।
সাবিরা এর ভুল গুলি শুনবেন??
১ - সে পরিবারের সাথে থাকতে পারে নি কারন তার পরিবার ই ছিলো না। যে যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিলো।
২- সে মলেস্টেড হয়েছে শুনার সে ছোটো হওয়াতে কাউকে বলে বুঝাতে পারে নি বরং তাকেই শাসন করা হয়েছে।
৩ - তার বন্ধু সঙ্গ খারাপ ছিলো। কেউ তাকে ভালোর পথ দেখাতে পারে নি। এমনকি তার জীবন দিয়ে ভালোবাসার মানুষটা ও না। তার সাথে যাই হয়েছে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ করলে হয়তো আজকে সে অনেক ভালো থাকতে পারতো।
৪ - ভুল যায়গায় আর ভুল মানুষের কাছে ভালোবাসা খুজে ছিল সে। ভালোবাসা তো পায় নি বরং শুনতে হয়েছে অনেক কথা আর বিতারিত হতে হয়েছে জীবন থেকে।
৫ - সব শেষ ভুল তার আত্মহত্যা করা টা। মহাপাপ এই আত্মহত্যা জেনে ও সে এই পাপের বোঝা নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে গেলো।
আমার কেনো খারাপ লাগছে শুনবেন? উপরের পয়েন্ট আকারেই বলিঃ
১ - পিতা বা মাতা কেনো ব্যাক্তিগত ভাবে মেয়েটার দায়িত্ব নিলো নাহ? যেখানে বাবা-মা ব্রোকেন ফ্যামিলি হোক কেনো সন্তান কে তারা আরেকজনের ঘরে মানুষ করবে? সন্তান জন্ম দেয়ার কি দরকার যদি তাকে পালার ক্ষমতাই না থাকে?
২ - এই ঘটনা শুনার পর মা-ফুফু-দাদী এর ভূমিকা কি ছিলো? কেনো উল্টো সাবিরা কে সাসন করা হয়েছিলো? কেনো তখনি মেয়েটাকে একটি সুন্দর জীবনের রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হলো নাহ?
৩ - যেই নির্ঝর কে সে এতো ভালোবাসতো সে কিভাবে মেয়েটাকে এভাবে নষ্ট করে দিতে পারলো? কিভাবে সে মেয়ে টাকে মৃত্যু এর পথে ঠেলে দিতে পারলো?
৪ - নির্ঝরের পরিবার বিয়ে ঠিক থাকলে বিয়ের ব্যাপারে উদাসীন কেনো ছিলো? কেনোইবা একটি মেয়েকে এভাবে প্রস্টিটিউট বলা হলো? কেনোই বা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো প্রত্যয় আর কার সাহসে?
৫ - কষ্ট একটাই এই দুনিয়াতে ও এক ফোটা শান্তি পেলো না মেয়ে টা আর আত্মহত্যা করায় ঐ দুনিয়াতেও সে শাস্তি টা পাবে।
দুঃখজনক হলে ও সত্য এরকম মায়েদের ক্ষেত্রে বলতে ইচ্ছে হয় যে, এমন মা হবার চেয়ে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া অনেক ভালো। অনেক বন্ধ্যা মা আছে যারা একটি সন্তান এর আশায় জীবন দিয়ে দেয়। আর এরা জন্ম দিয়ে আর খোজ নেয় না। বাবা এর ক্ষেত্রে ও একই কথা। সাবিরা অনেক বড় ভুল করেছে আত্মহত্যা করে। কিন্তু আমি জানি আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। এই দুনিয়া সে বিচার দেখে যেতে পারে নি। কিন্তু ঐ দুনিয়ায় আল্লাহ অবশ্যি সঠিক বিচার করবেন।
আমরা চাই না নতুন কোনো সাবিরার জন্ম হোক। চাই না আর কেউ এভাবে বিপথে যাক। সচেতনতা শুরু হোক নিজের ঘর থেকেই। আপনার সন্তান কে সময় দিন। জিজ্ঞেস করুন কি করছে? কোথায় যাচ্ছে? কার সাথে যাচ্ছে? কার সাথে মিশছে? তার সাথে মিশুন। জানুন তাকে। সময় দিন আর খোজ খবর নিন। এই আরটিকেল টি পড়ুন - একটি সাইলেন্ট ফোন আর একটি অপমৃত্যু

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন