সত্যি বলতে অনেক বদলে গিয়েছি। সারাদিনের কাজে ব্যস্ত থাকা মানুষ ছিলা। বেলা ১০-১২ টা তে বের হয়ে রাত ১১-১২ টার দিকে বাসায় আসতাম। রাস্তাই ছিলো আপন। রিক্সা ওয়ালা টাই ছিলো কাছের বন্ধু। সারা ঢাকা আমকে নিয়ে ঘুরতো সে। প্রতিদিন সেই একি আমি, একি রিক্সা আর একি রিক্সা ওয়ালা আমাদের শহীদ ভাই।
তাকে নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছি গোড়ান-মিরপুর-১১-গোড়ান, গোড়ান-বসুন্ধরা আবাসিক-গোড়ান, বাসাবো-ধানমন্ডী-বাসাবো, বাসাবো-সদরঘাট-বাসাবো, আরো আছে কলাবাগান, গ্রীন রোড, নীলক্ষেত, নিউ মার্কেট, টিএসসি, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোড উফফ! বলতে বলতে সব এলাকার নাম বলা হয়ে যাবে। মানুষ টা এতো বিশ্বাসী ছিলো যে আমার অবর্তমানে সে আমার কাজ টি করে দিতো তা হোক কোনো প্রোডাক্ট এর ডেলিভারি অথবা টাকা দেয়া নেয়া।
রাস্তায় চলতে চলতে তার যাতে খারাপ না লাগে মাঝে আমরা অনেক ব্রেক নিতাম। কথা বলতাম। এক সাথে খাওয়া দাওয়া আরো অনেক কিছু। একবার তার এক্সিডেন্ট হবার পর অনেক বিচলিত ছিলাম। তার প্রতি যে বিশ্বাস ছিলো তা আরো কোনো রিক্সা ওয়ালা এর ক্ষেত্রে হয় নি।
সত্যি বলতে আমার সেই সময় গুলোর সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। টানা ৬ মাস দিনের ১২ ঘন্টা উনার সাথে কেটেছে আমার। উনার সাথে আমার মনের মিল হবার কারন ছিলো উনি ফাকিবাজ ঘড়ানার মানুষ নয়। বয়স ৪০ হবে কিন্তু দেখতে অনেক ইয়াং। ক্লিন শেভ থাকে সব সময়। আমার মতনি শুকনো মানুষটা মন থেকে অনেক ভালো।
আজকে হঠাত এই মানুষটার কথা বলছি কারন। সে আমার লাইফ চেঞ্জিং কিছু বুদ্ধি দিয়েছিলো। অনেক মন খুলে কথা বলতাম তার সাথে। খুব আপন যাদের ই ভেবেছি তারা কেউ ই বেশি দিন স্থায়ী হয় নি। তাদের দরকার ফুরানোর সাথে সাথে চলে গেছে।
গত ৪ মাস আমি একদম সব কিছু থেকে দূরে থাকছি। মানসিক শান্তি পেতে। উদ্যোক্তা জীবন টা অমানুষিক হয়ে উঠেছিলো। দেনা, পাওনা সব মিয়েই যা তা অবস্থা। কেউ বা শত্রু হয়েছে আর কেউ বা শত্রু সেজেছে। মন থেকে অনেক শক্ত ছিলাম আর রাগ টাকে কন্ট্রোল করতে পেরেছিলাম। কাউকে কিছু বলি নি। একদম চুপ চাপ সময় কাটাই। কাউকে জ্বালাই না। তবে আমাকে জ্বালানোর মানূষের অভাব নেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন