"ধর্ষণ" - খুবি ছোটো একটি শব্দ। এর অর্থ কোনো নারী বা পুরুষ কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে শারীরিক ভাবে মিলিত হতে বাধ্য করা। গত কিছুদিন আগে ও ভারত এই ধর্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়েছিলো। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমাদের দেশ ও কম যায়নি এক্ষেত্রে। যেহেতু ভারত কে টিভি থেকে শুরু করে বাথ্রুমের হারপিক নাগাদ আমরা ফলো করি সে ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের দেশে।
এতো টাই স্বাভাবিক যে ঝোপ-ঝাড়, চলন্ত অথবা থেমে থাকা বাস, ঘরে ঢুকে অথবা যেখানে সেখানে ঘটছে ধর্ষণ এর মতন ক্রাইম। এসব সবার সামনে আসলে আমরা সবাই কয়েকদিন কুমিরের কান্না কাঁদি। তারপর ভুলে যাই।
আমরা কিন্তু এর বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। কিন্তু আমরা এই ব্যাপারে রুখে দাড়াতে সোচ্চার হওয়া সত্ত্বে তাহলে কেনো ঘটছে ধর্ষণ? কেনো? কি কারনে? কারা করছে? মনে রাখবেন তারাই করছে যারা কিছুদিন আগের এক ধর্ষণের ঘটনায় সোচ্চার হিসেবে চিৎকার করেছে অথবা সামনে করবে।
এখন এটা আরো সহজ হয়ে গেছে। কথায় কথায় ধর্ষণ শব্দ টি চলে আসছে মুখে মুখে। আর তাই ব্যাপার টা দিনে দিনে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। গত কালকে এক্তা মেয়ের পোস্ট এ দেখলাম, - "একটা মেয়েকে ধর্ষণ করলে যত জোড়ে চিৎকার করে, আজকে নাগোরদোলা তে উঠে আমরা তার চেয়ে ও বেশি জোড়ে চিৎকার করেছি।" কিছুদিন আগে ছিলো, - "রেন্ডিয়ারে বাংলার টাইগার রা রেপ করে দিসে একদম"। একটা ফেসবুক পেজ ও খুলা হয়েছিল ২০১১ এর দিকে, "ছেড়ে দে শয়তান, তুই আমার দেহো পাবি, তবু মন পাবি না"। এখন বলেন দেশে ধর্ষক কেনো বাড়বে নাহ?
"কুয়ারা", "তামাশা" এর পেজ এ যারা গিয়েছেন বা যেতে পারেন তারা একবার ঘুরে আসুন। কমেন্ট গুলো একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে পড়বেন। এরা এতোটাই বিকৃত মস্তিষ্কের যে এরা ছবি দেখেই ছবি কে ধর্ষণ করে ফেলে। শুধু কি ছেলেরা করে? না মেয়েরাও আছে এদের দলে। এসব পেজের অনেক পাগলা ফ্যান ও আছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম, "কেনো এসব পেজে পড়ে থাকেন?" রিপ্লাই এ পেলাম, "অনেক এন্টারটেইনমেন্ট পাওয়া যায় এসব পেজ থেকে, পোস্ট গুলো থেকে।" - এর মানে বুঝলেন আপনার বা আপনাদের আপলোড করা কিছু হাল্কা আর সম্পূর্ণ উত্তেজক কিছু ছবি তাদের কে এন্টারটেইনমেন্ট দেয়! আর অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজক হওয়া ও লাগে নাহ। এখানে আর কি বলার আছে?
ছেলেরা ভাবে গারলফ্রেন্ড এর সাথে সম্পর্কে যাবার পর তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক হলে তা ধর্ষণ হিসেবে গ্রহন করা হয় না। কিন্তু আপনার ধারন ভুল। আপনি যদি শারীরিক সম্পর্ক হবার পর সেই মেয়ে কে ছেড়ে দেন আর সেই মেয় যদি বুদ্ধিমতী এর মতন আপনার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে আর ম্মেডিকেল টেস্ট এ যদি তা প্রমানিত হয় তাহলে আপনি ও একজন ধর্ষক। ধর্ষণ কি স্বামী দ্বারা ও হয়? জি হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাকে ফোরসড সেক্স ও বলা হয়। ধরন এক্তাই নাম আলাদা এই যা।
আর তাই আপনাদের কাছে একটা বিনীত নিবেদন আবেদন এই যে, দয়া করে ধর্ষণ শব্দ টাকে মজা করে কোথাও ব্যবহার করবেন নাহ। এটা মজার কোনো বিষয় না। আর ধর্ষণ কে ঘৃণা করুন, ধর্ষিতা কে নয়।
সবাইকে ধন্যবাদ, ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন নাহ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন