আগের পোস্ট এ জানিয়েছিলাম হিটলার এর কিছু কিছু ভালো দিক। আজকে জানাবো এমন কিছু ব্যাপার যা হয়তো অনেকেই এখনো জানে না।
ব্যাক্তিগত জীবনঃ
তার নাম হবার কথা ছিলো, "এডলফ শিক্লগ্রুবার", কিন্তু ১৮৭৭ সালে তার বাবা তার নাম বদলে "এডলফ হিটলার" নামকরন করেন। সে তার প্রথম জীবনে একজন ইহুদী মেয়ের প্রেমে পড়ে। আর তাই অনেকের ধারনা, একারনেই সে অবিবাহিত ছিলো ইভা ব্রাউন কে শেষ মুহূর্তে বিবাহের আগ পর্যন্ত। অনেকে ধারনা করে মেয়েটি তার ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করে এর পর থেকেই সে ইহুদী নিধনে নামে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একজন ব্রিটিশ যোদ্ধা একজন জার্মান কে প্রাণ ভিক্ষা দেন, সেই জার্মান নাগরিক ই ছিলেন আজকের হিটলার। ৪ বছর বয়সে একজন পুরোহীত তাকে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে বাচায়। আর তাই ছোটো কাল থেকেই তার ইচ্ছে ছিলো পুরোহীত হবার। তাদের একজন অস্ট্রিয়ান-ইহুদি পারিবারিক ডাক্তার ছিলেন, যিনি তার পরিবারের কাছ থেকে কখনো অর্থ নিতেন না, তাই হিটলার তাকে "নোবেল জিউ" ডাকতেন এবং বিভন্ন ভাবে তাকে রক্ষা ও করতেন। কারাবাস কালে তিনি মারসিডিজ ডিলারশীপ এর জন্য একটি গাড়ীর লোন এর জন্য আবেদন করেন।
হিটলারের ক্রোনিক ফ্ল্যাটুলেন্স নামক রোগের আক্রান্ত ছিলো আর এর কারনে তার ২৮ রকমের ঔষধ সেবন করতে করতেন। এছাড়া হিটলার জীবিত ছিলেন একটি অন্ডকোষ নিয়ে। আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট, নেপোলিয়ান, মুসোলিনি এর মতন তার ও আইলুরোফোবিয়া ছিলো, অর্থাৎ তিনি বিড়াল ভয় পেতেন।
সামরিক জীবনঃ
হিটলার তার জীবনে কখনো কোনো কন্স্যান্ট্রেশন ক্যাম্প এ ভ্রমণে যায় নি। তার ভাতিজা এর বাড়ি তিনি বোমা মেরে উড়ীয়ে দেন লিভারপুল এ। এর পর তার ভাতিজা ইউ এস নেভি তে জয়েন করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য। আমেরিকান গোয়েন্দারা তার খাবারের সাথে নারীদের হরমোন মিশিয়ে তার মধ্যে নারীদের গুনাগুন আনয়নের জন্য বৃথা চেষ্টা ও করে এক পর্যায়ে। ইহুদী দের নিদর্শন গুলো কে নিয়ে তিনি একটি যাদুঘর বানাতে চেয়েছিলেন, যার নামকরন করার ইচ্ছা পোষন করেন "বিলুপ্ত জাতীর যাদুঘর"। যখন ডি-ডে এর সামরিক বাহিনী আসে তখন হিটলার ঘুমন্ত ছিলেন। তার জেনারাল রা তার হুকুম ছাড়া কোনো কাজ করেন নি। এবং এমন অবস্থাতে ও তারা তাকে জাগানোর সাহস দেখায় নি।
রাজনৈতিক জীবনঃ
হেনরি ফোর্ড - কে হিটলার তার আইডল আর ইন্সপাইরেশন ভাবতেন। ১৯৩৮ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন এর ম্যান অফ দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন আর তার পরের বছর ১৯৩৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার এর জন্য তিনি নোমিনেশন পান।হিটলার, স্টালিন, ট্রটস্কি, টিটো আর ফ্রেউড প্রায়ি একই কফি হাউজ এ যেতেন কারন তাদের সবার বাসস্তান ভিয়েনা থেকে কয়েক মাইলের মধ্যেই ছিলো দূরত্বে। নতুন বিবাহিত জুটি কে তিনি তার লিখা "মেইন কাম্ফ" বইটি উপহার দিতেন বিনামূল্যে। তিনি নিজে গাড়ি চালাতে পারতেন না ঠিকি কিন্তু বিখ্যাত "ভক্সোয়াগেন" কে উন্নয়নে অনেক দিক নিরদেশনা তিনি দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় যেই অভিযোগ, সেটি হলো, ইহুদী দের হত্যা করা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন তিনি একজন সাধারন যোদ্ধা ছিলেন তখন নিজের চোখে তিনি দেখতে পান কিভাবে ইহুদীরা বিশ্বাসঘাতকতা করে। এবং তা দেখেই ইহুদীদের প্রতি তার চরম বিদ্বেষ জাগে। ৬ মিলিয়ন ইহুদীকে হত্যা করে তার নাৎসি বাহিনী। ব্রিটিশ আর আমেরিকানরা এমনকি এখন কার কিছু মানুষ ও একারনে হিটলার কে দোষারোপ করেন। কিন্তু আসল ঘটনা হচ্ছে, এই হত্যা ঘটনা বা "হলোকাস্ট" এর পূরবে হিটলার আমেরিকা, ব্রিটেন আর অন্য দেশ গুলো কে এসব ইহুদি রিফুজি দের নিয়ে যেতে সুযোগ দেন। কিন্তু তারা তাদের নিতে অস্বীকার করে। এরপর ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলে এই "হলোকাস্ট" বা ইহুদী নিধন।
পরিবর্তন ও উন্নয়নঃ
উন্নত বিশ্বের ইতিহাসে হিটলার ই প্রথম ধূমপান বিরোধী ক্যাম্পেইন করেন। তিনি নিরামিষভোজী ছিলেন এবং প্রানীদের উপর সকল নীতি বহির্ভূত হত্যা আর রিসার্চ এর নামে নির্যাতন রোধে আইন প্রণয়ন করেন।
কাকতালীয় ভাবে এডলফ হিটলার আর ওসামা বিন লাদেন - দুজনকেই মৃত ঘোষনা করার দিনটি ১লা মে ছিলো।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন