৩ টি ঘটনা বলছি। আপনি ই বিচার করুন কি বলা উচিত!
ঘটনা-১ঃ
রাফিয়া। সবে এস এস সি পাশ করেছে। গ্রামে থাকে, ঢাকা এর কলেজ এ ভর্তি হবে। আর তাই ঢাকায় আসে তার এক আত্মীয়ের বাসায়। সম্পর্কে আপন খালার বাসা। খালার বড়ো ছেলে অনার্স শেষ করছে। মেজো মেয়ে রাফিয়ার সমান আর ছোটো মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী। ভালোই দিন যাচ্ছে। বাসায় ৩ রুম। এক রুমে খালা-খালু, এক রূমে ভাইয়া আর অন্য রূমে ওরা ৩ বোন। একদিন টিভি দেখতে দেখতে হঠাত আপত্তি কর একটি মুহূর্ত চলে আসে। রিমোট টা খালু এর হাতে থাকায় রাফিইয়া কাজের বাহানাতে স্থান ত্যাগ করে। এমন প্রায়ই হয়। পুরো বাসায় ২ টা বাথরুম। একটি খালা-খালু এর রুম এ আরেকটি বাকি দুই রুমের পাশে। এই বাথ্রুমে একটু সমস্যা হলো, দরজা একটু জোড়ে নাড়া দিলেই খুলে যায়। একদিন খালা তার রুমের বাথ্রুমে গোসল করতে যায়। পুরো বাসায় শুধু খালা। রাফিয়া আর ওর পিচ্চি খালাতো বোন টা। পুরো বাসায় কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় সবাই নিশ্চিন্তে। যে যার কাজে। আর রাফিয়া ও গোসল করতে যায়। হঠাত খালু চলে আসে। যা রাফিয়া জানত ই না। খালু হাত মুখ ধোবার জন্য রাফিয়ার বাথরুম এর দরজা জোড়ে নাড়া দিতেই তা খুলে যায়। সাথে সাথে সব শেষ। সেদিন রাফিয়ে চিৎকার ও দিতে পারে নি। খালু সরি বলে দরজা না লাগিয়েই চলে যায়। সেই থেকেই শুরু হয়। খালু সুযোগ পেলেই রাফিইয়া কে স্পর্শ করে। কথা বলতে চায়। তার নাম্বার ফোন মেসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করে তার বিশেষ অঙ্গের মাপ জিজ্ঞেস করে আর তার পোষাক লাগবে ইনা তাও জিজ্ঞেস করে। ফেসবুক এ খালু পাঠাতে থাকে বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে নামানো বিভিন্ন মেয়েদের আন্ডার ওয়্যার এর ছবি আর তাকে তা লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করে। সাথে থাকে বাজে বাজে মেসেজ। একদিন তো বাসায় একা পেয়ে ধর্ষণের সুযোগ ও পেয়ে বসেন তিনি কিন্তু ছোটো মেয়েটা চলে আসায় আর কিছু করতে পারেন নি।
ছোটো বেলাতে আমাদের আশেপাশের অনেক মেয়েরা হয়তো আপনার সন্তান অথবা আপনার বোন টা ও পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য দ্বারা হয়তো এসব সহ্য করেছে। এই ক্ষেত্রে এই মেয়েটির কি করা উচিত?
ঘটনা-২ঃ
শাফিনা। বয়স ২৮। এখন একটি মাল্টী ন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি করে। এ যাবত তার ৩ টি বিয়ে হয়েছে কিন্তু কোনো টি ই তার ৬ মাসের বেহসি টেকে নি। প্রতিটী ই তার ছিলো ধনী ঘরে বিয়ে আর কোনোটি ই ১০ লাখ টাকার নিচে কাবিন ছিলো না। প্রতি ডিভোর্স ই হয়েছে তার নিজের দিক থেকে। এবং ডিভোর্স ফাইনালের দিন ই সে তার দেন মোহরের টাকা আদায় করে নিয়েছে প্রতি ক্ষেত্রে। সর্বশেষ যেই ছেলেকে বিয়ে করেছিল, তার কোনো প্রকারের আয়ের উৎস ছিলো না তবু ও সেই ছেলে অন্ধ ভাবে ভালোবাসতো বিধায় ১৫লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেছিল। কিন্তু আবারো ৬ মাসের পরে শুরু হয় সেই ঘটনা আর ১ বছরের মধ্যেই ডিভোর্স।
এই ধরনের মেয়েদের কে আপনারা কিভাবে ডিফাইন করবেন? এরা আসলে কোন ক্যাটাগরি তে পরে?
ঘটনা-৩ঃ
হাফিজা। বয়স ২০। বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি কোচিং করতে ঢাকা তে এসেছে আর উঠেছে চাচার বাসায়। তার জন্য এ বাসায় চাচা এর বখাটে ছেলে ফয়সালের কু নজরের অত্যাচারে থাকা কষ্ট দায়ক আর তাই সে হোস্টেল ম্যানেজ করে। পরদিন ই হোস্টেল এ উঠবে এটা সবাই জানে। সেযেদিন হোস্টেল এ উঠলো সেদিন ই ফেসবুকের একটা আইডী থেকে তাকে একটি ভিডিও মেসেজ করা হলো। ভিডিও ওপেন করতেই তাতে হাফিজা নিজেকে দেখে চমকে উঠলো। শেষ দিন হাফিজা যখন গোসল করছিলো ঠিক সেই ভিডীও টি ই কৌশলে রেকর্ড করেছে তার বখাটে চাচাতো ভাই। লজ্জায় রাফিয়া শেষ। সে অনলাইন এ ছড়ীয়ে দেবে বলে। কি করলে তা বন্ধ করতে পারবে জানতে চাইলে টাকা চায় সে ১০০০০। টাকা দেয় হাফিজা। কিন্তু থামে না ফয়সাল। এবার চেয়ে বসে বেশি কিছু। জোড় করে শারীরিক সম্পর্কের জন্য। না করলে ভিডীও ভাইরাল হয়ে যাবে অনলাইন এ। প্রথমে না করলে ও পড়ে সে বাধ্য হয়। একবার, দুবার, পাঁচবার হতে হতে নিয়মিত। ধীরে ধীরে হাফিজা সয়ে ফেলে। গায়ে লাগে না এখন আর। মাঝে একদিন হঠাত ফয়সাল তার বন্ধু কে নিয়ে ও আসে ফুরতি করে। ধীরে ধীরে ফয়সাল ব্যবসা শুরু করে। আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু করে হাফিজা কে দিয়ে অবাধ ব্যবসা। সব কিছুর ভিডিও ফয়সালের হাতে। এখন ফয়সাল হাফিজাকে পয়সা ও দেয়। মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করে এই পথে হাফিজা। হাফিজা কে দেখলে কেউ বুঝতে ও পারবে না যে সে এসবের সাথে যুক্ত।
আপনার আশেপাশেই হয়ত আছে এমন অনেক হাফিজা। এদের ক্ষেত্রে আপনাদের ধারনা আর মতামত কি?
বিঃ দ্রঃ উপরের ঘটনা সম্পূর্ণই কাল্পনিক। কারো বাস্তব জীবনের সাথে মিলে গেলে আমি দায়ী নই।
জানি ব্যাপার গুলো অনেক ডিপ। অনেক শব্দ ব্যবহার করতে পারি নি লজ্জার কারনে। কিন্তু কিছু করার নেই। ঘটছে, দেখচি, শুনছি, ভাবছি। কিন্তু কোনো ভালো সমাধান হচ্ছে না। আপনারাই বলুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন