পৃষ্ঠাসমূহ

হয়তো একজন জড়িয়ে ধরলেই সাবিরা ভুলে যেতো সব

সাবিরা কে নিয়ে ভেবেছিলাম কিছুই বলবো না। সারাদিন আসলে অনেক পোস্ট দেখে বাধ্য হয়েই লিখতেসি। অনেক মেয়ে দাবী করতেসে একটা ছেলের জন্য কেনো এভাবে সুইসাইড করবো? মেয়ের জন্য অনেক ছেলে সুইসাইড করে। ছেলে-মেয়ে হিসেবে ভাগ না করে আসুন সমস্যা টা তে ফোকাস করি।
একজন মানুষ কখন আত্মহত্যা এর পথ বেছে নেয় জানেন? যখন সে নিজের আকছে নিজে ছোটো হয়ে যায়। নিঃস্ব হয়ে যায়। তার বেঁচে থাকার আশা গুলো নষ্ট হয়ে যায়। স্বপ্ন গুলো যখন ভেঙ্গে যায়। আশেপাশের মানুষের সুখের চিন্তায়। ঋণের বোঝায়। ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার কষ্টে। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

মজা করছি না, এই মেয়ে টা আর বেঁচে নেই। আমার চোখে দেখা বাংলাদেশ এ প্রথম কেউ লাইভ ভিডিও মেসেজ দিয়ে মারা গেলো। মারা যাওয়ার কিছু মুহূর্তের আগের ভিডিও এটি। যা আমাকে নাড়া দিয়েছে 
যথেষ্ট প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বে ও তার মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হয়েছে প্রেমের কারনে। কারন ছেলেটি এবং তার পরিবার বিয়ের জন্য মেনে নেয় নি। আর ছেলেটি ও মেয়েটিকে সেক্স স্লেভ হিসেবে ব্যবহার করে গেছে।
তার পরিবারের যে সে কতো তা কাছের ছিলো সেটা তার মা এর দুই পৃষ্ঠার মামলা এর কপি দেখলেই বুঝা যায়। কিন্তু আপনি কি জান্নে, একজন মানুষ কতো টুকুন আশা হত হলে সে নিজে নিজের মৃত্যু ঘটায় ভাবতে পারেন? কতো টা দুঃখ আর কষ্ট নিয়ে একজন আত্মহত্যা করে জানেন? সাপোর্ট দিচ্ছি না। আমার বন্ধু সার্কেল এ এমন ৪-৫ জন আছে যারা আজকে বেঁচে নেই। সবাই প্রেমের কারনে এই কাজ করেছে।
একজনের ঘটনা বলি, নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেবে বলার পর মেয়ে বলে দিয়ে দেখাও। সে ও দিয়ে দেয়। ৪ রাত ৫ দিন মানিক (সবচেয়ে কাছের মানুষকে মাঝে মাঝেই মানিক ডেকে ফেলি) আমার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর বার্ন ইউনিট এ ছিলো। ৫ দিন ই গিয়েছি বার্ন ইউনিট এ যারা গেছেন শুধু তারাই বলতে পারবেন কি অবস্থা সেখান কার। জীবিত মানুষ ও মরে যাবে শিওর। আমি ৪ দিন ই বমি করেছি। বেশিক্ষন টেকা যায় না। মানিক আমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মেয়ে টা কে একবার দেখার জন্য কাদসে। ওর দোষ এক্টাই ও গরীব ছিলো আর মেয়েতা ছিলো অনেক ধনী। আমার বন্ধু ঠিকি মারা গেছে। কিন্তু আমাদের মেরে গেছে। ঐ মেয়েকে উঠিয়ে আনার ক্ষমতা ছিলো কিন্তু বন্ধুর পারমিশন ছিলো নাহ। বলেছিলো খবর দে ও আসবে। এতো যন্ত্রনা এর পরেও আশা ছাড়ে নি। মেয়ে আসে নি। জানতাম আসবে ও না। এটা শুধু একটা স্টোরি।  
এমনি আরো ঘটনা আছে কিন্তু বলতে চাইছি না। আসলে সাহসে কুলাচ্ছে না। অনেক বেশি কষ্ট দায়ক ঘটনা। আসলে ইসলাম এ আত্মহত্যা মহাপাপ। না হলে হয়তো গতবছর আমার ও এমন খবর পেতেন। প্রচন্ড রাগ হতো নিজের উপরে। এক পর্যায়ে গত বছর ফেব্রুয়ারীতেই চরম পর্যায়ে চলে গিয়েও বেঁচে গিয়েছিলাম অস্বাভাবিক ভাবে। সেদিন থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করি। রাগ কন্ট্রোল করি। হাসি খুশি থাকি। মেডিটেশন এর সময় বাড়িয়ে দিয়েছি। নিজেকে সময় দেয়া শুরু করি। রিলেশন না করে একাই ঘুরে বেড়াতাম। সহ্য ক্ষমতা আর স্ট্যামিনা বেড়ে যায় অনেক বেশি। কিন্তু সবার সহ্য ক্ষমতা আমার মতন হবে না এটাই স্বাভাবিক।
সাবিরা কে চাইলে নির্ঝর বাচাতে পারতেন। মানসিক ভাবে। যেই ভিডিও নিয়ে তোলপার হলো, তার আগেই কিন্তু ঘটনা জানতেন নির্ঝর। তিনি চাইলেই কিন্তু তাকে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে সাহায্য করে বাচাতে পারতেন তাকে আরো কয়েকটা দিন। মেয়েটা ভালোবাসার অভাবে মারা গেলো। ছেলেটা মেয়েটাকে যখন ইচ্ছে ব্যবহার করেছে। আর মেয়ে টি ও বাঁধা দেয় নি। আর তাই সরাসরি নির্ঝর কে আসামী করা ১০০ ভাগ জায়েয আছে।
তবে ধিক্কার জানাচ্ছি সাবিরা এর মায়ের প্রতি। বুঝলাম আপনার মেয়ে খারাপ। কিন্তু কেমন মা আপনি? যে কিনা ২ পেজ মেয়ের দুর্নাম লিখে মামলা করে গেলো? মেয়ে টা মারা গেছে। সে যতোই খারাপ হোক। আপনি তো মা। এটাই তো প্রমান করে যে সে আসলে পরিবার থেকে কতো টা দূরে ছিলো? তার মা তার কতো আপন ছিলো আর পরিবার তার কতো টা সাপোর্টে ছিলো। এই মেয়ে তো চারিদিক থেকে বিতারিত হয়ে গিয়েছিলো। এসব একজন মানুষের মনে হলে যে তার কতো টা একা লাগে ভেবেছেন? ছুড়ি হাতে নিয়ে ও সে তার পেটে ঢুকাতে পারছিলো নাহ। হাত কাপছিলো। থেমে যাচ্ছিলো।
হয়তো একটি বার ভালোবেসে মা অথবা নির্ঝর জড়িয়ে ধরলেই সাবিরা ভুলে যেতো সব আজকে হয়তো বাকিদের মতন সেলফি দিতো। পোস্ট করতো। আজ সে নেই। তার আইডি তা তার স্মৃতি তে পড়ে আছে। বন্ধুরা স্নেহভাজনরা তার পোস্ট এ কমেন্ট করছে। 
জানি সাবিরা তুমি হয়তো জান্নাত পাবে না। আর এটি তোমার নিয়তি যা তুমি বেছে নিয়েছিলে। আশা করবো আর কেউ তোমার মতন এই পথ বেছে নেবে না। এই পথ সঠিক দিকে নেবে না তোমাকে নিলো ভুল পথে। তবে দৃষ্টান্ত হয়ে গেলে। চাই তোমার ঘটনা থেকে মানুষ কিছু শিখুক। মিডিয়া নিয়ে আর কিছু বলবো নাহ। শুধু এটাই বলি, আপনার আশে পাশে কখনো যদি এমন মন মানসিকতার কোনো মানুষ থেকে থাকে দয়া করে আমার সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দেবেন। হয়তো তাকে কিছুক্ষন সময় দিলে তার বেঁচে থাকার ইচ্ছে বাড়বে :) মন থেকে তাদের জন্য কাজ করতে আগ্রহী যারা এ ধরনের মানসিক সমস্যা তে ভুগছে। 

Mahabubur Rahaman

Mahabubur Rahaman Arman is a Bangladeshi ICT Entrepreneur and Professional Internet Entrepreneur through e-Commerce and f-Commerce, e-Commerce Consultant, T-shirt Brand Consultant, Marketing Consultant, Ideapreneur, Volunteer, recently started working with electronic products and He is also a professional Graphic Designer alongside all of these He is the co-founder and CEO of T-ZONE (www.tzonebd.com).

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন