রাফিউল এর সাথে তার পরিবারের সম্পর্ক বেশি ভালো নাহ। নানা কারনেই তার তাদের সাথে একটা দূরত্ব আর এই কারনেই রাফিউল মোবাইল ফোন এ তার পরিবারের কারো নাম্বার নথিভুক্ত বা সেভ করে রাখে নি। কল আসলে সে নাম্বার দেখে চিনে নেয় যে এটা কে।
তন্বী কে সে পাগলের মতন ভালোবাসে। তন্বী ও তাই। কিন্তু সম্পর্ক টা লং ডিস্টেন্স এর। মাসে একবার দেখা হয় কয়েক দিনের জন্য। পরিবার থেকে বাচার আশা না পেয়ে রাফীউল তন্বীর দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার কারন খুজে পায়। ছোটো বড় সবকিছু নিয়েই তন্বী এর এই দুনিয়া তেই পড়ে থাকে রাফিউল। তন্বী এর একটি ই সমস্যা সে সব সময় ফোন সাইলেন্ট করে রাখে। আর এতেই কয়েকবার রাগ হয় রাফিউল এর। অনেক দরকারের সময়েই তাকে ফোনে পাওয়া যায় না তার এই অভ্যাস এর কারনে।
একদিন রাস্তায় ভয়াবহ এক্সিডেন্ট এ মারাত্মক আঘাত পায় রাফিউল তার মাথায়। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ফোন ঘেটে প্রথন কলার তন্বী কে কল করা হয় কিন্তু সে ফোন ধরে না। ৩০-৫০ বার। আর বাকি সেভ নাম্বার কে ফোন দিয়ে জানা যায় কেউ পারিবারিক খোজ জানে না। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে চেনে তাকে। কেউ তার ঠিকানা জানে না আর তার পকেটে তার কোন আইডি ও নেই। ডাক্তার দের শেষ চেষ্টার পর ও মারা যায় রাফিউল। মারা যাবার আগে তন্বী কে কল করতে বলছিলো সে বারে বারে। বিকাল ৪ টার দুর্ঘটনা তে বিকাল ৫ টায় রাফিউল দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে। চার্জ হীন হয়ে বন্ধ হয়ে যায় ফোন। রাফিউল এর লাশ হয়ে যায় বেওয়ারিশ।
ঘুম থেকে উঠে যখন তন্বী ফোন দিলো ফোন বন্ধ। কারো কাছেই খোজ নেই রাফিউল এর।
অবশেষে দাফনের ২ দিন পর পরিচয় মিলে। সদ্য দুদিন আগের কবর দেয়া মানুষটা যে রাফিউল তা প্রমান পায়। পড়নের রক্তাক্ত সাদা শার্ট আর জিন্সপ্যান্ট টাই শুধু এখন তার স্মৃতি। সবাই সবার জীবনে ফিরে যায়।
তন্বী আজো কাঁদে ফোনের দিকে তাকিয়ে শেষবার কথা বলতে না পেরে। রাফিউলের আত্মা আজো শান্তি তে নেই শেষবার কথা বলতে না পেরে। রাফিউল এর পরিবার আজ রাফিউল কে অনেক মনে করে যাকে জীবিত থাকতে তারা মূল্যহীন ভাবতো।
বিদ্রঃ উপরের ঘটনা কাল্পনিক। মোবাইল ফোন বলেন আর মুঠোফোন বলেন যাই বলেন, এই ডিভাইস টি আসলে মানুষের কত টা উপকার আর অপকার করতে পারে তা ভাবতে ও পারবেন নাহ। এখানের ঘটনা থেকে ৩ টি শিক্ষা পাওয়া যায়ঃ
১ - আপন মানুষ দের নম্বর ফোনে সেভ করে রাখবেন। তাদের সাথে আপনার দূরত্ব যতই হোক তারা আপনার পরিবার।
২ - নিজের পরিচয়পত্র এর একটি ফটোকপি আর পরিবারের সবার নাম্বার একটি কাগজে লিখে মানিব্যাগ এ বা পকেট এ রাখবেন।
৩ - ফোন সাইলেন্ট করে কখনো ঘুমাবেন না। এটি অনেক কঠিন কিন্তু মাথায় রাখবেন সময়ের তাড়নায় বলতে হয়েছে। ভাবুন আপন মানুষের জীবন বড় না আপনার ঘুম? তাছাড়া হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে পরীক্ষা এর হলে কাজের ক্ষেত্রে কি করবেন। মুহূর্ত গুলো অবশ্যি আপনি ভালো জানেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন