আইএসএস নতুন কোনো নাম নয়। একটি পুরাতন সমস্যা। কেউ বলে আইএসএস, কেউবা আইএসএল আর কেউবা ডাকে আইসিস নামে। কয়েক বছর ধরে এদের হঠাত করে অস্বাভাবিক উত্থান আমাদের কে বাধ্য করে তাদের কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে। তারা নিজেদের কে “ইসলামিক স্টেট” দাবী করে এবং জানাইয় তারা খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত করতে এসেছে। তাদের আরো দাবী তারা ইসলাম কে বাচাতে ইসেছে বিধর্মী দের কাছ থেকে। এতোটুকুন পর্যন্তই তাদের ব্যাপার এ ভালো লাগবে। কিন্তু এর পরের ঘটনা গুলো তাদের কে ঘৃণা করতে বাধ্য করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক দেশে আইএসএস এর হামলা সবাইকে এখন আতংকিত করেছে। এবং ইদানীং আমাদের দেশ বাংলাদেশ এ ও আইএসএস তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। যদি ও আমাদের দেশের সরকারের দাবী যে ঘটনা সত্য নয়। আইএসএস আমাদের দেশে নেই। কিন্তু তাদের দাবী অবশ্যই ফেলনা নয়। কত কয়েক বছরে একাধিক নাস্তিক এবং ধর্ম বিদ্বেষী ব্লগারের একই ভাবে খুন হবার ঘটনার পাশাপাশি খ্রিষ্টান ধরমযাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু, হিন্দু ধর্মাবলম্বী খুন এসবের পিছনের ই দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা আর আইএসএস।
আর তাই স্বাভাবিক ভাবে মনের ভেতর কিছু অস্বাভাবিক প্রশ্ন এসে যায়। গুগল ঘেটে সমাধান পেয়ে ও মন ভরে না কারন সবচেয়ে বড় কথা এখানে কিছু প্রশ্ন চলে আসেঃ
১ - কেনো মিডল ইস্ট?
২ - তাদের অস্ত্রের যোগান দাতা কে?
৩ - তাদের অর্থের যোগান দাতা কে?
৪ - তাদের উদ্দেশ্য কি?
৫ - এর নেপথ্যে কে?
৬ - তাহলে আইএসএস কে বা কারা?
আমি শুরু করছি পঞ্চম প্রশ্ন টি দিয়ে। কোনো উদাহরন ছাড়াই উত্তর টি হচ্ছে, আমেরিকা আর ইসরায়েল। না, অস্বাভাবিক উত্তর দিচ্ছি না আবার বানোয়াট কিছু ও বলছি না। যা সত্যি তাই। শুধু আমি না যদি কষ্ট করে আন্তর্জাতিক মিডীয়া গুলো একটু ঘেটে দেখে থাকেন খুব সহজেই হিসেব মেলাতে পারবেন। রেফারেন্স একটা লিংক দিচ্ছি, দেখবেন আশা করি - লিংক । তবে এডওয়ার্ড স্নোডেন দাবী করেন তিনটি দেশ একত্রিত হয়ে এই আইএসএস নামক সন্ত্রাসী দলটি গঠন করেন - লিংক । যেহেতু আমেরিকা আর ইসরায়েল এর উপর প্রথম থেকেই আইএসএস সহযোগীতা এর অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে এখন জানার বিষয় এই তিন নম্বর দেশটি কে? যতদূর সম্ভব আমার মনে হচ্ছে দেশটির নাম তুরষ্ক। কারন ইদানীং আমেরিকা-ইসরায়েল-তুরষ্কের বন্ধুত্ব শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বন্ধুত্বে পরিনত হয়েছে।
চতুর্থ প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারি, আইএসএস দাবী করছে তারা ইসলাম পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে এসেছে। ব্যাপার টা হাস্যকর ছাড়া কিছু না। আইএসএস যদি সত্যি ইসলাম প্রচার করতে আসতো, তবে তারা যুদ্ধ শুরু করতো ফিলিস্তিন এর পক্ষে। ইসরায়েল এর বিপক্ষে। কিন্তু ঘটোনার ঘনঘটা তে তা হয়ে উঠে নি। আসলে আইএসএস এর উদ্দেশ্য হলো ইসলাম কে বিনষ্ট করা। ইসলাম কে নিঃশেষ করে দিয়ে মিডল ইস্ট কে ইসলাম মুক্ত করা আর মিডল ইস্ট এর তেল এর খনি গুলো নিজেদের আয়ত্তে নেয়া। এক হিসেবে আমেরিকা আর আইএসএস উদ্দেশ্য তেলের ক্ষেত্রে মিলে যাচ্ছে। সবাই জানেন তেলের খনি এর লোভে আমেরিকা কিভাবে “আরব স্প্রিং” ঘটিয়েছিল।
তৃতীয় প্রশ্ন যদি জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে সত্যি অভাবনীয় উত্তর আসে। আর সেটি হলো আইএসএস এর অর্থায়ন করে খোদ আমেরিকা নিজে। ভুল বলছি? কয়েক মাস আগে পাকিস্তানী পুলিশ বাহিনী একজন আইএসএস কমান্ডার কে এক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে আর তার কাছে থেকে পাওয়া যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। যার নাম ইউসুফ আল সালাফী এবং সে জিজ্ঞাসাবাদ এর পর স্বীকার করেছে যে আইএসএস কে অর্থায়ন করে আমেরিকা - ভিডিও লিংক । এছাড়া ও বয়স ভিত্তিক অন্য ধর্মের কিশোরী হতে শুরু করে নারীদের ধরে ধরে বিক্তি করে ও অর্থের যোগান করা হয়। সাথে তেলের ব্যবসা তো আছেই। সব দখল এ নিয়ে নেয় তারা। রিলেটেড আরো লিংক । রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৫ সালের নভেম্বরের এক প্রেস ব্রিফিং এ দাবী করেন যে, আইএসএস এর অর্থায়নের পেছনে ৪০ টি দেশ রয়েছে। যার মধ্যে জি-২০ এর সকল দেশ অন্তর্ভুক্ত - লিংক ।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর ও সোজা। সোজাসুজি দায় আমেরিকার উপরে যায়। ইরাক যুদ্ধের পর তারা তাদের যুদ্ধের সরঞ্জাম খোলা ময়দানে রেখে যায় ব্যবহারের জন্য। কাদের জন্য? আইএসএস এসে সেগুলা দিয়েই চালায় ধ্বংসযজ্ঞ। সিএনএন এর এই খবর টি পড়লেই বুঝে যাবেন যে, এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ৪৪ পৃষ্ঠা এর প্রতিবেদনে কি বলেছে, লিংক । আমেরিকান যোগান দেয়া অস্ত্র ছাড়াও তারা অস্ত্র বিভিন্ন উপায়ে ক্রয় করে তা দিয়ে ও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আরো কিছু রিলেটেড লিংক দিচ্ছি - লিংক - ১ লিংক - ২ লিংক - ৩ লিংক - ৪ লিংক - ৫
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারি, মিডল ইস্ট তেলের খনি। প্রথমত আমেরিকা বিশ্বের সকল তলের উপর তাদের নিজেদের প্রভাব খাটাতে চায়। আর ইসরায়েল চায় না তাদের আশপাশে তাদের চেয়ে শক্তিশালী আর ভয়ানক কোনো প্রতিবেশি থাকুক। আর তাই আক্ষরিক অর্থে ইসরায়েল আর আমেরিকাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে যদি মিডল ইস্ট কে তারা হাতের মুঠোয় রাখতে পারে। এর জন্য তাদের যত চেষ্টা করা দরকার তারা করেছে। লিবিয়া, মিশর, ইরাক, সিরিয়া কেউ ছাড় পায় নি তাদের ছোবল থেকে। যারা তাদের মতের বাইরে গেছে তারাই আজ নিহত। লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফী, মিশরের হুস্নে মুবারক শাহ আর ইরাকের সাদ্দাম কেউ আর তাদের দেশ বাচাতে এগুতে পারবে নাহ। সিরিয়ার আসাদ কে ও একই উদ্দেশ্য আঘাত করার চেষ্টা চলছে এখন। কিন্তু রাশিয়া সিরিয়া এর সাপোর্ট এ থাকায় পারছে নাহ। এই লিংক এ গেলে দেখতে পারবেন ২০১৬ সালে আক্রমন করা ৭০% এর ও বেশির ভাগ এলাকাই মিডল ইস্ট এ অবস্থিত - লিংক ।
এবার আসি ষষ্ঠ প্রশ্নের উত্তরে। এই প্রশ্নের উত্তরে খুব সহজেই দুটি দেশের নাম আসে। আমেরিকা আর ইসরায়েল। আর আইএসএস মূলত গঠিত মোসাদ এর সদস্যদের কে নিয়ে। তাদের মূল সংগঠক গুলো মোসাদ থেকে এসেছে। মোসাদ ইসরায়েল এর গোয়েন্দা বাহিনী। সাথে আছে আমেরিকা এর সিআইএ এর প্রত্যক্ষ সহযোগীতা। আইএসএস যে মোসাদ আর সি আই এ এর তৈরি তার উপর এই প্রতিবেদন টি দেখুন লিংক । আর এইটা ভালো করে পড়লে বুঝতে পারবেন আইএসএস এর চীফ আসলে কে ছিলেন? লিংক । এমন কি আল-কায়েদা নেতা আইমান আল-জাওয়াহিরী দাবী করে, আইএসএস মোসাদ এর এজেন্ট লিংক । এই প্রতিবেদন তা ও দেখুন - লিংক । সাবেক সি আই এ এর সদস্য, এডওয়ার্ড স্নোডেন দাবী করেন, আইএসএস এর দলনেতা আবু বকর আল বাগদাদী, মোসাদ এর কাছ থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ - লিংক ।
এই লিংক এ গেলে দেখতে পাবেন এখনকার পর্যন্ত ১৯৮০ সাল থেকে ইসলামিক সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রমন আর নিহতের ঘটোনার লিস্ট। যার মধ্যে গত ২-৩ বছরের হিসেব দেখলে আইএসএস এর আক্রমন সম্পর্কে ধারনা পাবেন - লিংক - ১ লিংক -২ । ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত, আইএসএস ৯০ টি আক্রমন করেছে ২১ টি দেশে যার কারনে ১৪০০ এর ও বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়াও তারা আমেরিকার এর কয়েক হাজার মানুষ কে টার্গেট করেছে বলে তারা কিছুদিন আগে বিবৃতি প্রদান করে। লিংক - লিংক । ২২শে মার্চ ২০১৬ এর ফক্সটুনিউজ এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আইএসএস ৭০ টি আক্রমন সঙ্গঠিত করেছে ২০ টি দেশে। লিংক - লিংক
পরিশেষে বলতে চাই, উগ্রবাদীদের কোনো ধর্ম নেই, এরা ধর্মের লেবাশ পড়ে থাকে। ইসলাম কখনো সন্ত্রাসবাদ সাপোর্ট করে না। আইএসএস যা করছে তা জিহাদ নয়। মহান আল্লাহ তা আলা এবং আমাদের মহানবী (সাঃ) কখনো নিরীহ মানূষদের উপরে হামলা চালাতে বলেন নি। বলেননিই অহেতুক মানুষ খুন করতে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন