পৃষ্ঠাসমূহ

মাননীয় রেলমন্ত্রী বরাবর আমার দেশবাসীর পক্ষে কয়েকটি আকুল আবেদন

বরাবর, 
মাননীয় রেলমন্ত্রী, 
বাংলাদেশ সরকার। 

বিষয়ঃ রেলপথের খাবার মান ও সুবিধাদি বৃদ্ধির আবেদন। 

জনাব, 
আসসালামু ওয়ালাইকুম। পত্রের শুরুতেই শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাল ক্ষেপন না করিয়া সরাসরি বলতে চাই, আমাদের দেশের দূর যাত্রার রেলপথের খাবার এর মান দিন-দিন নিম্নমানের হয়ে যাচ্ছে। পাশের দেশ ভারতে যখন রাজধানী এক্সপ্রেস এর মতন বিলাসবহুল ট্রেন এ আমাদের দেশের কোনো যাত্রী উঠে থাকে, তাহলে সে বুঝতে পারবে আমাদের রেলপথ বহুল জনপ্রিয় না হবার মূল কারন গুলো কি কি। সমস্যা গুলো আমি নিম্নে উল্লেখ করছিঃ 
১ - রাতের কোচ গূলো তে বেড সিট এর ব্যবস্থা না থাকা। পাশের দেশ ভারতের লোকাল ট্রেন এ ও এই সুবিধা আছে। আমাদের দেশের এক্সচলুসিভ ট্রেন গুলো তে ও এই সুবিধা নেই। শুধু মাত্র কেবিনের ক্ষেত্রে আলাদা বেড সিট পরিলক্ষিত হয়। আমি মনে করি রাতের কোচ গুলো ৭-৮ ঘন্টার হয় যেখানে ঘুমানোর পরিবেশ অত্যাবশ্যকীয়। 
২ - ট্রেন এর খাবারের মান অত্যাধিক নিম্ন মানের। সকালে যেই স্যান্ডউইচ দেয়া হয় তার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ডাস চত্বর এর স্যান্ডউইচ ও অনেক ভালো। মাঝে মাঝে ট্রেন এর কাটলেট কে টোস্ট বিস্কুট মনে হয়। সিদ্ধ যেই ডিম সকালে দেয়া হয় সেটী ও ঢান্ডা হয়ে যায়। সকালের বাশি পাউরুটি ও বিকেলে বেচাকেনা হয়। এক মাত্র প্লেইন স্লাইস কেক টাই তাজা পাওয়া যায় সময় মতন খেলে, নয়তো পরে এটিও বাসী হয়ে যায়। সমাধান হিসবে কিছু রেস্টুরেন্ট কে টেন্ডার এর মাধ্যমে ডিলারশিপ প্রদান করা যায়। এতে তারা ভালো খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকতে পারবে। 
৩ - ট্রেন এর খাবার শহর থেকে সংগ্রহ করে ক্যান্টিন এ আনা হয়। কিন্তু এখানে পণ্য মূল্য অত্যাধিক বেশি। সরকারী পরিচালনায় চলা ট্রেন ও যদি এম আর পি রেট এর বেশি দাবী করে সেখানে আর কি বলা যায়? ৩য় শ্রেনীর মানের একটি স্যান্ডউইচ এর মূল্য ৬৫ টাকা অথচ এর চেয়ে ভালো স্যান্ডউইচ পাওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ডাস চত্বরে। জীবন বাচানো পানির বোতল গুলো ও কম করে হলেও প্রতি পিস এ ৫ টাকা বেশি রাখা হয়। সাথে আছে চিপস, চকোলেট ইত্যাদি। 
৪ - দূরের যাত্রা পথে বিমানবন্দর এলাকা থেকে অনেকেই ট্রেন এ আহরন করে, যাদের কাছে ট্রেইন এর দায়িত্বরত ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলে ও সে নিজ থেকে বলতে চায় না যে সে বিমান বন্দর থেকে উঠেছে। এখানে নৈতিকতার অবক্ষয় পরিলক্ষিত হয়। আর তাই টিকেট ছাড়া যাতে কেউ উঠতে না পারে এক্ষেত্রে ভালো সিদ্ধান্ত দরকার। কারন টিকেটের টাকাটা সরকার পাবে। দেশকে ঠকিয়ে কি লাভ? 
৫ - টিকেট এর মূল্য এর সাথে ১৫ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে প্রতি সিট এর আরোহীকে একটি করে ২৫০ এম এল পানির বোতল প্রদান করলে কি বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে? এটা করতে পারলে অনেক ভালো হতো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর পরিশোধীত বোতলজাত পানি সরকার খুব কম মূল্যে ক্রয় করতে পারে। 

আরো অনেক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে এই সমস্যা গুলো সমাধান হলে বাকি সমস্যা গুলো ঢেকে যাবে এবং সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত এতো টুকুনই। এর বেশি কিছু বলার নেই। আশা করি আমার আবেদন খানি আপনার গোচরে আসিবে। 

নিবেদক, 
মাহাবুবুর রহমান আরমান, 
নাগরিক, 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

Mahabubur Rahaman

Mahabubur Rahaman Arman is a Bangladeshi ICT Entrepreneur and Professional Internet Entrepreneur through e-Commerce and f-Commerce, e-Commerce Consultant, T-shirt Brand Consultant, Marketing Consultant, Ideapreneur, Volunteer, recently started working with electronic products and He is also a professional Graphic Designer alongside all of these He is the co-founder and CEO of T-ZONE (www.tzonebd.com).

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন