গত ২ সপ্তাহে কম করে হলেও ১৫ থেকে ২০ বারের মতন বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের খবর শুনেছি। শুনেছি আর আতকে উঠেছি।
বনানী তে ২ তরুনী ধর্ষণ এর অনাকাংখিত ঘটনা আমাদের চেতনা কে অনেক বেশি নাড়া দিয়েছে। প্রতিবছরই এমন হয়। একবার হলে ও হয়। তবে অবাক এবং আশ্চর্য হয়ে যাই আমাদের মধ্যকার কিছু মানুষরূপী পাষাণ দের কথা বার্তা দেখে। অদ্ভুত!
সাফাত স্বীকার করেছে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নাঈম স্বীকার করেছে ধর্ষণ এর ঘটনা ঘটেছে। সাদমান ও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। বডিগারড ও বলেছে ড্রাইভার ও ভিডিও করেছে বলেছে। অথচ তারপর ও অনেকের চোখেই মেয়েরাই খারাপ। ব্যাপার টা এম যে, সে খুন হয়েছে দোষ যে খুন হয়েছে তার কারন কেনো সে গেলো? না গেলে তো খুন হইতো না। :)
মজার ব্যাপার হলো আজকে দেখছি অনেকেই একটা নয়া পেজ শেয়ার করছে যেখানে একজন ভিকটিম এর ছবি পাবলিক করে কি বুঝাতে চাইছেন? ভিক্টিম খারাপ? আচ্ছা, প্রথমেই বলি। ছবি গুলো দেখেছি আমি। যার মধ্যে সাফাত এর সাথে ভিক্টিম কে দেখা গেছে ২ ড্রেস। একই ড্রেসে একাধিকবার দুজনের একাধিক ছবি প্রমান করে যে ছবি গুলো একই দিনের। অর্থাৎ সাফাত এর সাথে ভিক্টিম এর ২ দিনের ২ টি ছবি আছে। আর যিনি শেয়ার করলেন, উনি ইতিহাস আমলের ২-৩ বছর আগের নতুন পুরান ছবি গুলো দিয়ে এখন "ভিক্টিম ব্লেমিং" করছেন। যেখানে প্রতিটী ছবি তে ক্লিয়ার দেখা যাচ্ছে যে ভিক্টিমের সাথে থাকা ঐ ছবি গুলোতে সকলেই মেয়ে যাদের ছবি এডিট করে কাটা হয়েছে। সেখানে তাদের বান্ধবীদের ব্যাক্তিগত মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে বেড়িয়েছেন পোস্ট দাতা। একটা ছবি তে ও তিনি প্রমান করতে পারেন্নি যে ভিক্টিম একাধিক সম্পর্কে জড়িত বা সে খারাপ কেউ। হ্যা একটি ছবি তে তাকে দেখা গিয়েছে গালে চুমু খেতে, তবে জেনে নেবেন আমাদের এই দেশে এই জিনিস টা ভ্যালিড হিসেবেই আছে উচ্চ মহলে। আর এখানে পাশ্চাত্যের চুম্বনের কোনো চিহ্ন নেই।
কি বুঝাতে চাইছেন আপনারা? মেয়ে খারাপ? রেইনট্রি হোটেল ধরা খেলো। আপন জুয়েলারস ধরা খেলো, তারপরো বলবেন মেয়ে খারাপ? আসামীরা ধরা পড়ার পর স্বীকার ও করলো তারপর ও ভিক্টিম ই খারাপ? এখন বলুন, কতো টাকা পেয়েছেন এই পোস্ট গুলো করতে? আর কতো টাকা ঢালা হয়েছে এসব করার জন্য? পোস্ট টি যে করেছেন। রেডি থাকবেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০১৩) এর ৫৭(২) ধারা মোতাবেক আপনি একজন আসামী। আর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ভিক্টিমের ছবি বা ভিডিও ভিক্টিমের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যদি কেউ কোনো স্থানে পত্রিকায়, যোগাযোগ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায় সে ক্ষেত্রে ও মামলা এর বিধান রয়েছে। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।
"ধর্ষণ" - খুবি ছোটো একটি শব্দ। এর অর্থ কোনো নারী বা পুরুষ কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে শারীরিক ভাবে মিলিত হতে বাধ্য করা। গত কিছুদিন আগে ও ভারত এই ধর্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়েছিলো। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমাদের দেশ ও কম যায়নি এক্ষেত্রে। যেহেতু ভারত কে টিভি থেকে শুরু করে বাথ্রুমের হারপিক নাগাদ আমরা ফলো করি সে ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের দেশে।
এতো টাই স্বাভাবিক যে ৪ তারকা হোটেল, ঝোপ-ঝাড়, চলন্ত অথবা থেমে থাকা বাস, ঘরে ঢুকে অথবা যেখানে সেখানে ঘটছে ধর্ষণ এর মতন ক্রাইম। এসব সবার সামনে আসলে আমরা সবাই কয়েকদিন কুমিরের কান্না কাঁদি। তারপর ভুলে যাই।
আমরা কিন্তু এর বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। কিন্তু আমরা এই ব্যাপারে রুখে দাড়াতে সোচ্চার হওয়া সত্ত্বে তাহলে কেনো ঘটছে ধর্ষণ? কেনো? কি কারনে? কারা করছে? মনে রাখবেন তারাই করছে যারা কিছুদিন আগের এক ধর্ষণের ঘটনায় সোচ্চার হিসেবে চিৎকার করেছে অথবা সামনে করবে।
৫ বছর বয়সী পূজার কথা মনে আছে? বলতে বাধ্য হচ্ছি, তার যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে বড়ো করা হয়েছিল ধর্ষণ করার সুবিধার জন্য। এইতো গতকালের কথা, উত্তরখান এর ৬৪ বছর বয়সি আইনুল হক এর কথা যে তার সৎ শিশু কন্যা কে ধর্ষণ করেছে আর দক্ষিনখান এর ২৪ বছর বয়সি ইউসুফ খান এর কথা যে কিনা মেয়েকে তো ধর্ষণ করেছেই, তার ভিডিও ধারন করে অনলাইনের ছেড়ে দেবার ভয় দেখিইয়ে তার মা কে ও ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারন করে ছড়িয়ে দিয়েছে অনলাইনে, ভুলে গেছেন সে বাবা-মেয়ের কথা যারা ট্রেন এর নিচে ঝাপ দিয়েছিলেন লজ্জা সইতে না পেরে? হালিমার সেই আর্ত চিৎকার কি কানে বাজে না? গাড়ো তরুনীকে ধর্ষণ চলন্ত মাইক্রোবাস এ, সবুজবাগ এ ৪ বছরের বাচ্চা মেয়ে দারোয়ান দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে এইতো কদিন আগে!
আমাদের দেশের সবচেয়ে হাস্যকর লাগে যখন আমাদের দেশের তদন্ত কারী অফিসাররা মেডিকেল এ গিয়ে নিজ বাসায় সৎ বাবা দ্বারা টানা ৮ বছর যে মেয়ে ধর্ষিত হয়েছিল আর যার এবোরশন হয়েছিল ৫ বছর আগে সেই রিপোর্ট এর ব্যাকাপ ফাইল বা রিলেটেড ইনফো খুজতে যায়, এবং পায়না বিধায় মামলা ডিসমিস হয়ে যায়। বাংলাদেশে না, সারা বিশ্বে এমন কনো দেশ আছে যেখানকার মেডিকেল এই এবোরশনের রিপোর্ট দেবে? দিলে ও ৫ বছর আগের রিপোর্ট? আর বাবা-মা ও কি এগুলো সংরক্ষন করে রাখে? সবচেয়ে আজগুবি লাগে মেডিকেল এর দুঃখ জনক হলেও সত্য "টু-ফিংগার সিস্টেম"। যার মাধ্যমে মেয়ে বা নারীদের সেক্সুয়াল স্ট্যাটাস পরিমাপ করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন