পৃষ্ঠাসমূহ

বনানীর ২ শিক্ষার্থীর ধর্ষণ মামলার আদ্যপান্তো

বিঃদ্রঃ - নিচের এই পোস্ট এর সাথে আমার অর্গানাইজেশন, ফাউন্ডেশন বা আমি জড়িত এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকারের যোগ সূত্র নেই। নিতান্তই আমার ব্যাক্তিগত মতামত।
 বামে নাঈম আশরাফ, ডানে উপরে সাদমান সাকিফ, নিচে সাফাত আহমেদ।

সরাসরি আসল টপিকে চলে যাচ্ছি। বনানীতে ২ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী জন্মদিনের দাওয়াতে একটি চার (৪) তারকা হোটেলে গিয়ে ধর্ষণ এর শিকার হয়েছেন। এই কেসের কিছু স্টোরি আগে শর্ট কাটে আপনাদের সামনে তুলে ধরি। এখন প্রতি টি পয়েন্ট ধরে ধরে কথা বলতে চাই।

১ - জন্মদিনের কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে -
আমার বন্ধুরা যদি আমাকে ডেকে নিয়ে যায় জন্মদিনের কথা বলে আর সেখানে নিয়ে গিয়ে তারা যদি আমাকে খুন করে তাহলে কি সেখানে আমি যে তাদের বিশ্বাস করেছি তার জন্য আমার দোষ হবে? আমরা তো সামাজিক জীব। খারাপ বন্ধু কিভাবে চিনবে যদি না তার ভিতরে আগে এমন খারাপ আচরন গুলো না দেখে থাকে তো? আর ডেকে নিয়ে দাওয়াতের কথা বলে যদি ধর্ষণ এর মতন ঘটনা কেউ ঘটায় সেই ক্ষেত্রে ভিক্টিম দের দায়ী করা টা "যে সে কেনো গেলো" এটা কতোখানি যুক্তিযুক্ত?

২ - সেই ঘটনা ভিডিও ধারন করা হয়েছে -
যেখানে ধর্ষণ নিজেই একটি অনেক বড়ো অপরাধ নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী, সেখানে আবার তার ভিডি ও ধারন ও কিন্তু পর্নোগ্রাফী আইনের ৮(২) ধারা অনুযায়ী অপরাধ। অতএব এখানে ২ ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।

৩ - ক্রমান্বয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ এর -
মামলা যেনো বাদী না করতে পারে তাই তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও হয়েছে। উক্ত ধারন করা ভিডি ও অনলাইনে প্রচার এর ভয়-ভীতি দেখিয়ে মামলার আলামত নষ্ট করার চেষতা করা হয়েছে সাথে ভিক্টিম কে মামলা না করতে প্রেশার প্রদান করা হয়েছে।

৪ - হোটেল এর লগ চেক করে সেদিনের হোটেল বুকিং এ আসামীদের নাম পাওয়া গেছে -
এই ব্যাপার টা জেনে ভালো লেগেছে যে হোটেলের লগ চেক করে সেইদিনের বুকিং এর তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে আসামীদের নাম ও ডিটেইলস পাওয়া গেছে।

৫ - চার (৪) তারকা এই হোটেলে ১ মাস আগের সিসি টিভি ফুটেজ পাওয়া যায় নি -
এই ব্যাপার টা আমাকে খুবি মর্মাহত করেছে আর আমি খুবি অবাক ও হয়েছি। একটি চার (৪) তারকা হোটেলে ১ মাস আগের সিসি টিভি ফুটেজ পাওয়া যায় না? এই হোটেল ৪ তারকা হয় কিভাবে? এতো গরীব হোটেল তারা? মিনিমাম ৬ মাস থেকে ১ বছরের সিসি টিভি ফুটেজ রাখা উচিত হোটেলের কম হলেও। আসলেই নেই নাকি রাখা হয় নি, নাকি মামলার আলামত নষ্টের চেষ্টা?

৬ - কোনো কর্মী (হোটেলের) এমন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল না বলে জানানো হয় -
চার তারকা হোটেলে অসময়ে কোনো কর্মী ছিলো না ,এটা কি একটু হাস্যকর হয়ে গেলো না ব্যাপার টা। এই হোটেল কে পারমিশন দিয়েছে কে হোটেল হবার?

৭ - কিন্তু তাদের দাবী ঘটনার পর উক্ত শিক্ষার্থী মেয়েরা হাসি-খুশি মুখেই বের হয়েছিল -
উপরের প্যেন্ট ৫ এবং ৬ থেকে জানা গেলো তাদের কাছে সিসি টিভি ফুটেজ ও নেই আবার কর্মী ও ছিল না। তাহলে আমাকে এখন বুঝান যে তারা কিভাবে জানলো মেয়েরা হাসিখুশি ছিল বের হবার সময়? যেখানে মেয়েদের কে কোনো কর্মী দেখে নি তাহলে কিভাবে জানলো তারা? ব্যাপার টা ঘোলাটে। মামলা নষ্ট করার পায়তারা।

৮ - প্রায় ১ মাসের ও বেশি সময় পরে মামলা করতে থানায় যায় ভিক্টিমেরা -
মামলা দায়েরের দেরির কারন স্বরূপ তারা উপরের ৩ নম্বর পয়েন্ট উল্লেখ করে। আর তাই তাদের দেরি হয়েছে।। আর সকল মামলা বা এজহারের কপির মধ্যে আমরা কিন্তু উল্লেখ ও করি যে "পরিবার পরিজনের সাথে আলাপ-আলোচনা করিয়া মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করিতে বিলম্ব হইলো।" হ্যা এটাই কিন্তু প্রথম প্যারা এর শেষ লাইন। তাহলে সমস্যা টা কোথায়?

৯ - ২ দিন লাগে মামলা বনানী থানায় দায়ের হতে -
এটা স্বাভাবিক। আমার ও একটা নরমাল মামলা করতে ১৪ দিন লাগার নজির আছে। আবার ৩ ঘন্টায় ও মামলা হয়েছে এমন নজির ও আছে। সঠিক বিচার বিশ্লেষন ছাড়া মামলা গ্রহন করা যায় না। একটা মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এর নির্ভুল এজহার কপির উপরে। আর তাই যতো দেরি হউক না কেনো, ততোই ভালো। তবে পাশাপাশি তদন্ত ও চলতে পারে।

১০ - অনেকের দাবী থানা ২৫ লাখ টাকা ঘুষ খেয়ে মামলা দায়ের করতে চায় নি -
এটা একটা অযৌক্তিক কথা। এবং ভিত্তিহীন ও বটে। প্রমান ছাড়া এভাবে বলা ঠিক না। গুলশান জোনের ডিসি আর এডিসি ভাইকে খুব ই কাছের থেকে চিনি। থানা এমন করলে ভিক্টিম চাইলে তাদের কাছে যেতে পারতো।

১১ - মেডিকেল টেস্ট এর জন্য কমিটি গঠন করা হয় ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে না রেখে -
এটা আমার হাস্যকর লেগেছে আর কিছু না। রিপোর্ট পেতে ২ সপ্তাহ লাগে তা আমি ও জানি। কিন্তু মেডিকেল টেস্ট এর জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে কি লাভ হবে? মামলা হওয়া কালীন উচিত ছিল তাদের ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা থানায় নয়।

১২ - আসামীর বাবার বিতর্কিত স্টেট্মেন্ট এবং আমিন জুয়েলারস কে বয়কট এর ঘোষণা -
আসামীর কৃতকর্মের জন্য অবশ্যি তার শাস্তি পাওয়া উচিত। কিন্তু তার সাজা কেনো তার পরিবার বা বাবা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কে দেয়া হবে তাই আমি ভাবছিলাম কাল রাত নাগাদ। কিন্তু যখন ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই রাতে যদি কিছু হয়েও থাকে তাহলে সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছে।” - সেখানে সে কথা জানার পর আমি বলতেই পারি যে আমাদের সকলের উচিত আপন জুয়েলারস কে বয়কট করা! আর কিছু বলতে চাই না। আসলে বয়কট বয়কট বলে লাভ নাই। যারা আপন জুয়েলারস কে বয়কট করতে চান তাদের জন্য বলছি, সাকিব আল হাসান এর বনানী এর রেস্টুরেন্ট টার ৫০% মালিকানা ও জানা গেলো এই ধর্ষক সাফাতের। যে অবস্থা দাড়াচ্ছে, বয়কট এর লিস্ট বানাতে হবে দেখা যাচ্ছে!

আর শুনা যাচ্ছে পুলিশ তাদের বিদেশ পলায়ন ঠেকানোর জন্য সতর্ক রয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এই সাজেশন টা দিয়ে দেখতে চাই, যে আপনারা কি একটু ইমিগ্রেশনে আগে খোজ নিয়েছেন যে তারা আগেই পলায়ন করেছে কিনা? আমার তো তাদের এতো টা বোকা মনে হয় না?

বাংলাদেশ এর নাগরিক হিসেবেই এসব বললাম আর কিছু না। সামনে আরো কিছু মাথায় আসলে লিখবো।

Mahabubur Rahaman

Mahabubur Rahaman Arman is a Bangladeshi ICT Entrepreneur and Professional Internet Entrepreneur through e-Commerce and f-Commerce, e-Commerce Consultant, T-shirt Brand Consultant, Marketing Consultant, Ideapreneur, Volunteer, recently started working with electronic products and He is also a professional Graphic Designer alongside all of these He is the co-founder and CEO of T-ZONE (www.tzonebd.com).

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন