পৃষ্ঠাসমূহ

স্বাধীন আর জয়ার গল্প - ছোটো গল্প

স্বাধীন আর জয়া একই অফিসে চাকরি করে। অনেক বেশি ক্লোজ সারা রাত তাদের ফোনের কথা চলে আর সারাদিন অফিসে তো কথা হয়ই। স্বাধীন মনের অজান্তেই জয়ার প্রেমে পড়ে যায় প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই। কিন্তু কখনোই বলে নি। দিনে দিনে আরো বেশি ভালবাসতে শুরু করে সে। বাসায় ফেরার সময় ও একি পথে ফেরে তারা। স্বাধীন আগে জয়া কে নামিয়ে দিয়ে এসে নিজে বাসায় আসে। বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে একটু রেস্ট তার পর আবার শুরু সেই ফোনালাপ।



স্বাধীন – হ্যালো?
জয়া – বলো। আছি। ডিনার ডান?
স্বাধীন – তুমি খাইসো?
জয়া – না এখনো না।
স্বাধীন – খেয়ে নাও আগে তারপর কাজ করো।
জয়া – ওয়েইট এ মিনিট তুমি কিভাবে বুঝলা আমি কাজ করতেসি?
স্বাধীন – ২৪ ঘন্টার অলমোস্ট ২০ ঘন্টা তোমার সাথেই কাটে বলতে গেলে অফিস ফোন আর রাস্তার টাইম মিলিয়ে।
জয়া – (চুপচাপ) হুম। তুমি খেয়ে নাও।

এমনি হয় তাদের আলাপ। যা খুবি সাধারন। স্বাধীন ভালোবাসি ও বলতে পারে নাহ। স্বাধীন অনেক তুখোড়। হঠাত তার বিদেশ থেকে একটা অফার আসে চাকরি এর। অনেক বড় কোম্পানী থেকে। থাকা-খাওয়া সব সেটেলমেন্ট ওরা দিবে। যাওয়ার খরচ ও অর্ধেক দেবে। মোটা অংকের বেতন ও আছে। ইউএসএ তে। তো স্বাধীন অনেক কষ্টে আছে না পারছে বলতে না পারছে সইতে। সে সেখানে যাবার জন্য দিনে দিনে তৈরি হয়ে গেলো। জয়া কেও জানালো। হঠাত কয়েদিন যাবত জয়া ক্ষেপাটে আচরন দেখানো শুরু করলো। যাই হোক এমন টা চলছিলো। ছোটো বিষয়ে ওদের ঝগড়া চরম পর্যায়ে যাচ্ছিলো। এদিকে ফ্লাইট এর তারিখ চলে এলো। স্বাধীন সবার সাথে দেখা করলো। তাদের অফিসে ও গেলো শেষ অফিস হিসেবে সবাই একসাথে পার্টি করলো জয়া ও ছিলো। সবাই ই হাসি খুশি ছিলো। আসার সময় সবাই কে বিদায় দিয়ে এসে জয়া আর স্বাধীন একসাথে হাটছিলো রাস্তায় কোনো সি এন জি নেই। তাই দুজনে কেনো জানি আস্তে আস্তে হাটছিলো। ১০ মিনিট চুপচাপ হাটার পর সিএনজি পেলো দুজনে উঠলো। রাস্তায় অনেক জ্যাম। স্বাধীন এর ফ্লাইট পর দিন দুপুর ১ টায়। কেউ কথা বলছে না।

স্বাধীন – জয়া?
জয়া – হুম বলো? কি হয়েছে?
স্বাধীন – কি হয়েছে তোমার?
জয়া – কিছু না। ভাবছি তুমি চলে গেলে অনেক মিস করবো তোমাকে। কে আমাকে বাসায় পৌঁছে দিবে। স্বার্থপর বুঝোই তো।
স্বাধীন – (চোখে পানি এসে গেলো) তাই না? আমি পারলাম না এমনটা হতে।
জয়া – কেমন টা?
অনেকক্ষণ দুজন চুপ চাপ। রাস্তায় ৩০ মিনিট এর মতন জ্যাম এ কেউ একটা টুশব্দ ও করেনি। এবার স্বাধীন শুরু করলো।
স্বাধীন – জয়া আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। এটা তোমার জন্য। এখন খুলো না।
জয়া – খুলি প্লিজ?
স্বাধীন – না। বাসায় যেয়ে খুলো এটা।
জয়া – ওকে।
স্বাধীন – জয়া!
জয়া – বলো স্বাধীন।
স্বাধীন – আমি চলে যাচ্ছি। আর কখনো ফিরতে পারবো কিনা জানি নাহ। তবে তোমাকে একটা কথা বলে যেতে চাই।
জয়া – এভাবে বলে না। আমি অনেক মিস করবো তোমাকে। কি বলতে চাও বলো।
স্বাধীন – আমি তোমাকে ভালোবাসি। (চোখ থেকে পানি ঝড়ছে)

দুজনেই চুপ।
জয়ার বাসার কাছে চলে এলো সি এন জি টা। স্বাধীন ওকে বিদায় দিচ্ছিলো।

স্বাধীন – ভালো থেকো। নিজের যত্ন নিও। আমি কিন্তু জ্বালাবো আগের মতনি। যদি ফোন আমার ধরো তো। তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি আমি। ভালো থেকো।
জয়া কিছুই বলতে পারে নি। ফ্যাল ফ্যাল করে ওর দিকে শুধু তাকিয়েছিলো। স্বাধীন চলে গেলো পিছনে ফিরে কয়েকবার তাকালো। দেখলো জয়া দাড়িয়েই আছে। অনেকক্ষণ পরে দেখলো জয়া বাসায় ঢুকেছে।

স্বাধীন হেটে আসছিলো। অনেকদূর এসে গেলো। পুরো রাস্তায় সে কাদছিলো আর হাটছিলো। হঠাত ফোনে একটা মেসেজ এলো। তাড়াতাড়ি দেখতে গেলো। দেখে মোবাইল অপারেটর এর এস এম এস। মেজাজ খারাপ করলো সে। ফোন রাস্তায় আছাড় দিবে এমন অবস্থা। হঠাত একটা ফোন কল।

ওপার থেকে – তুমি কই?
স্বাধীন – কে?
ওপার থেকে – আমি গাধা চিনো নাই আমার মোবাইল এ ব্যালেন্স নাই। আমার নাম্বারে ফোন দাও গাধা!
স্বাধীন – ঠিক আছে। কিন্তু আপনি কে?
ওপার থেকে – আরেহ গাধা আমি জয়া!
স্বাধীন – এটা কার নাম্বার?
জয়া – রুমমেট এর। তুমি কই আছো বলো তো? একটু আস্তে পারবে আমার বাসার সামনে প্লিজ?
স্বাধীন – ওকে।
স্বাধীন কিছুই বুঝে উঠতে পারে নি যে সে কি করবে। সে দৌড়ে রিক্সা নিলো। পৌঁছে গেল।
স্বাধীন – কই তুমি?
জয়া – নামছি ওয়েট।
স্বাধীন – ওকে।
জয়া – তুমি একটা সি এন জি করো। টি এস সি তে যাবো।
স্বাধীন – এখন? ওকে। করছি।
জয়া লেট করছে ওদিকে স্বাধীন সি এন জি নিয়ে বসে আছে।
স্বাধীন – কই তুমি? সি এন জি নিয়ে দাঁড়ায় আছি।
জয়া – সিড়িতে।

এমন সময় নেমে এলো জয়া। লাল শাড়ি তে জয়া। স্বাধীন অবাক হয়ে চেয়ে আছে।
স্বাধীন – তুমি কোথায় যাবা? কোনো দাওয়াত আছে?
জয়া – (মুচকি হাসি) এখন উঠ জলদি।
স্বাধীন – ওকে।
স্বাধীন - হঠাত টিএসসি কেনো?
জয়া – তোমার হাত টা দাও।
স্বাধীন হাত দিলো।
জয়া – (কাদতে কাদতে) আমাকে ছেড়ে যেও না প্লিজ। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো নাহ।
স্বাধীন – কি বলছো?
জয়া – আমিও তোমাকে ভালোবাসি স্বাধীন। অনেকদিন থেকেই বাসি। বলতে পারি নি। কারন এটা তোমার কাজ ছিলো আমাকে বলা। (দুজন দুজনের হাত শক্ত করে ধরলো)

জয়া স্বাধীন এর কাধে মাথা রাখলো। দুজন অনেক ক্ষন কান্না করলো।

জয়া – স্বাধীন তুমি যেয়ো নাহ। প্লিজ!
(স্বাধীন কি বলবে ভেবে পাচ্ছিলো না। দুজন দুজনকে ছাড়ছিলোই না। অনেক শক্ত করে ধরেছিলো।)
জয়া – বিয়ে করবে আমায় স্বাধীন?
স্বাধীন – হুম।
জয়া - যাবে নাতো?
স্বাধীন – না যাবো নাহ।
জয়া - আজকেই বিয়ে করতে পারবে? আমি সব ম্যানেজ করে রেখেছি। টি এস সি তে সবাই আছে। আমার বন্ধুরা কাজি সহ।
স্বাধীন – কি? সত্যি?
জয়া – হুম সত্যি।
স্বাধীন – দাঁড়াও। তাহলে বাসায় জানিয়ে দেই। আমার মা তোমার কথা জান্তো বাসার সবাই ও জানতো। বলে দেই।  তাদের আসতে বলবো?
জয়া - তাহলে সবাই বাসায় আসুক কি বল? লেট হয়ে যাবে। তুমি বাসায় জানায় দাও। আমরা কাজ সেড়ে যাবো নে?
স্বাধীন – ওকে।

বাসায় জানানোর পর স্বাধীন এর বাসায় তাড়াহুড়ো লেগে গেলো ঘরে নতুন বউ আসবে তাই। সবাই খুশি ছিলো। আবার মন খারাপ করেছিলো কারন স্বাধীন যে অফার টা রিজেক্ট করছে সেটা আর পাবে নাহ হয়তো।
ওদিকে টিএসসি তে যেয়ে বিয়ের কাজ শেষ করলো ওরা। দুজনে অনেক বেশি খুশি আজকে। বাসায় আসলো। আত্মীয়রা সবাই চলে আসছে বাসায়। বউ দেখতে। সবাই অনেক খুশি হলো। এক বন্ধু হঠাত তাদের হাতে বাসের দুটা টিকেট ধরায় দিলো।

নাজিম – নে এটা তোদের জন্য?
স্বাধীন – মানে?
জয়া – আমি বুঝি নাই।
নাজিম – আমি আর তোর ভাবি ভাবসিলাম যাবো। তাই টিকেট কেটেছিলাম কক্সবাজার এর। কিন্তু মনে হলো এটা এই সময়ে তোদের দেয়া উচিত। ১২ টার গাড়ি তোরা রেডি হ।
স্বাধীন – কি কস না কস ব্যাটা? রেডি হবো কেম্নে এতো তাড়াতাড়ি?
জয়া – নাজিম অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু একটু বেশি তারাতাড়ি হয়ে যায় তো।
নাজিম – আরে যাও তো? এটা তো গিফট তোমার ভাবি আর আমি দুজন ই দিচ্ছি মন থেকে।
স্বাধীন – জয়া কি বলো?
জয়া – এখনি ব্যাগ গুছাতে হবে তাহলে। তুমি তাহলে তোমার ব্যাগ গুছাও তাড়াতাড়ি। তারপর আমরা বের হয়ে আমার বাসার দিকে যাবো। তুমি ব্যাগ গুছাতে গুছাতে  আমি আমার বাসায় ফোন দিয়ে জানায় দেই।

স্বাধীন রেডি হতে গেলো। জয়া বাসায় ফোন দিলো। প্রথমে একটু রাগারাগি করলে ও যয়া স্বাধীন এর বাবা-মা এর সাথে তাদের কথা বলায় দিলো। তারা মেনে গেলো। তারা ঢাকা আসবে। ওদিকে রেডি হয়ে গাড়িতে উঠলো স্বাধীন, জয়া ও নেমে আসলো। সময় খুবি কম। জয়া বাসায় ঢুকে সব গুছায় ব্যাগ এ নিওয়ে বের হলো। দুজন সময় মতন বাসে উঠলো। এর আগেই এটিএম থেকে স্বাধীন টাকা তুলে নিলো হাজার বিশেক ক্যাশ। যার দশেক রাখলো জয়া এর কাছে।

স্বাধীন – ধন্যবাদ জয়া। তোমাকে ভালোবেসে ভুল করি নি আমি... অনেক ভালোবাসি তোমাকে....
জয়া – আমি জানি যে আমি তোমার জন্য বেস্ট :D তাই তো ফোন দিয়েছিলাম। আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি স্বাধীন...

সারা রাত কথা বলতে বলতে তারা পর দিন কক্সবাজার এ পৌঁছে গেলো। শুরু হয়ে গেলো তাদের নতুন জীবন।

[সম্পূর্ণ ঘটনাই কাল্পনিক। কারো সাথে মিলে গেলে আমার দোষ নেই।]

কপিরাইট © ২০১৬ - মাহাবুবুর রহমান আরমান

Mahabubur Rahaman

Mahabubur Rahaman Arman is a Bangladeshi ICT Entrepreneur and Professional Internet Entrepreneur through e-Commerce and f-Commerce, e-Commerce Consultant, T-shirt Brand Consultant, Marketing Consultant, Ideapreneur, Volunteer, recently started working with electronic products and He is also a professional Graphic Designer alongside all of these He is the co-founder and CEO of T-ZONE (www.tzonebd.com).

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন